ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬

popular video

শিক্ষিকার সঙ্গে প্রেম : অত:পর সব গেলো মন্ত্রীর

তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত কাছের মানুষ। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যর মন্ত্রিসভার দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ছিল তার অধীনে। ছিলেন কলকাতা শহরের মেয়র। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বেও তিনি। কিন্তু সব কিছু শেষ হয়ে গেল এক কলেজ শিক্ষিকার কারণে। মঙ্গলবার তিনি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সরে দাঁড়াচ্ছেন মেয়রের পদ থেকেও।

বলছিলাম এ সময়ের আলোচিত মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কথা। তার এই রাজনৈতিক পরিণতির জন্য অভিযোগের আঙুল উঠছে বৈশাখীর দিকে। এই কলেজ শিক্ষিকার সঙ্গে প্রেমের কারণেই তার এই অধঃপতন। এই সম্পর্কের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে শোভন তার প্রশাসনিক ও দলীয় কাজকর্ম ঠিক মতো করছিলেন না। এখন তার বিবাহিত জীবনও ভাঙনের মুখে।

যদিও শোভন এই অভিযোগ মেনে নিচ্ছেন না। কেননা তার কাছে বৈশাখী এখনও ‘সংকটের বন্ধু’ হিসেবেই গুরুত্ব পাচ্ছে।


চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কে এই বৈশাখী? শোভনের সঙ্গে তার কত দিনের পরিচয় এবং কী ভাবে?

নানা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শোভনের সঙ্গে বৈশাখীর প্রথম যোগাযোগ মিল্লি আল আমিন কলেজে গোলমালের সূত্রে। শোভন তখন মেয়র। বৈশাখী তার আগে থেকেই ওই কলেজের শিক্ষক। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘ দিন মনোজিৎবাবু ও বৈশাখীর পরিচিত। স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’ করিয়ে দেওয়ার জন্য কল্যাণবাবু বৈশাখীকে শোভনের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেই যোগাযোগ খুব বেশি দূর এগোয়নি। বরং কিছুটা আড়ষ্টতাই ছিল। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের আলোচনা সভায় প্রয়োজনে বৈশাখী মেয়র হিসেবে শোভনের সমালোচনাও করতেন।

সেই সময় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈশাখীর যোগাযোগ ছিল বেশি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রেসিডেন্সির স্নাতক এবং যাদবপুরে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি তিনি। পার্থবাবু শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার পর বৈশাখী তৃণমূলের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হন। মিল্লি আল আমিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষও করা হয় তাকে। তখনও তিনি শোভনের এত ঘনিষ্ঠ ছিলেন না।

সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন সময়ে বৈশাখী তাকে দেখতে যান। সেখানে তখন শোভনও ছিলেন। শোভন তাকে দেখে হাল্কা চালে একটু কটাক্ষ করেন। তারপর আরও একবার সাংসদ কল্যাণবাবুর কল্যাণে শোভনের সঙ্গে বৈশাখীর দেখা হওয়ার ব্যবস্থা পাকা হয়।

সেই দেখা হল। নোটবন্দি নিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সামনে তৃণমূলের বিক্ষোভ মঞ্চে। ধাপে ধাপে ঘনিষ্ঠতা বাড়ল। প্রেমে জড়িয়ে পড়লেন সুন্দর এই শিক্ষিকার সঙ্গে। যদিও বৈশাখী তখন বিবাহিতা এবং সন্তানের জননী। বৈশাখীর কারণেই স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে থাকে। এরপর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করলেন শোভন। বৈশাখীকে বললেন তার ‘দুর্দিনের বন্ধু’।

দুজনের সম্পর্ক এতটাই নিবিড় হয়ে ওঠে যে, কলকাতা, দিল্লির সর্বত্র শোভনের সঙ্গে ছায়াসঙ্গীর মতো দেখা যায় বৈশাখীকে। শোভনের আইনগত যাবতীয় কাজকর্ম দেখাশোনার ভার নিজের হাতে তুলে নেন বৈশাখী। শোভন পরিবেশমন্ত্রী থাকাকালীন শৈাখীকে জলাভূমি সংক্রান্ত একটি কমিটির সদস্যও করে নেন। শোভনের গোলপার্কের ফ্ল্যাটে যে কোনও সময়ে দেকা যেত বৈশাখীকে। পুরসভার বিভিন্ন নথিপত্রও খোলা খাতার মতো বৈশাখীর চোখের সামনে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠনের পদ থেকে বৈশাখীকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শোভন পরিবেশ দফতর হারানোর পর সেখানকার কমিটিতেও বৈশাখী আর নেই। অন্যদিকে মন্ত্রিত্ব হারিয়ে মেয়র পদ হারানোর মুখে শোভন। বলা যায়, বৈশাখী ঝড়ে তিনি এখন পুরোপুরি বিধ্বস্ত। তারপরও বৈশাখীর প্রতি তার অনুরাগ এতটুকু কমেনি। সূত্র: আনন্দবাজার

Posted by Newsi24

Migrant latest news

T
O
P