ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

popular video

পুরস্কার নিতে এসে উল্টো প্রধানমন্ত্রীকেই পুরস্কৃত করল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিয়াসা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার নিতে এসে উল্টো তাকেই পুরস্কৃত করে গেল টাঙ্গাইল সদরের জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী পিয়াসা সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. আশরাফুল আলম খোকন জানান, ছোট্ট পিয়াসার ছবি আঁকার হাত খুবই ভালো। ছবি আঁকাতে জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারও পেয়েছে সে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার স্বপ্নের মানুষ। গত আড়াই মাস চেষ্টা করে পিয়াসা বঙ্গবন্ধু কন্যার একটি পোট্রেট আঁকে।
তার মা তাপসী রানী সরকার জানান, মেয়েটা অনেক পরিশ্রম করেছে। মুখ মিলেতো চোখ মিলে না, চুল মিলেতো ভ্রু মিলে না। অবশেষে আড়াই মাস ধরে চেষ্টার পর বঙ্গবন্ধু কন্যার ছবি নিয়ে পিয়াসার সন্তুষ্টি আসে। উদ্দেশ্য একটাই, যেকোনোভাবেই হোক এই ছবিটি সে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবে। তার সেই স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে।
খোকন জানান, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ছবিটি নিয়ে তিনদিন আগে তারা ঢাকায় আসে। শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য মোট ১০৮ জনকে এ অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করা হবে, পিয়াসা সেই ভাগ্যবানদের মধ্যে একজন। গত দু’দিন তারা অনেক চেষ্টা করেও ছবিটি প্রধানমন্ত্রীকে দেয়ার কোনো সুযোগ খুঁজে পায়নি। নিরাপত্তা বিভাগ থেকেও বলে দেয়া হয় অতিরিক্ত কোনো কিছু সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রবেশ করা যাবে না। পুরোপুরি হতাশ হয়েই গতকাল মা’কে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে পিয়াসা। কাগজে মোড়ানো ছবিটি নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন বাবা শংকর চন্দ্র সরকার। মা-মেয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হলেই তারা ছবিটি সঙ্গে করে নিয়েই টাঙ্গাইল চলে যাবেন।
কিন্তু ১১ বছরের যেই শিশুটির স্বপ্নের মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, শিশুটির সাহস নিশ্চয়ই কম নয়। যথারীতি নাম ডাকা হলে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে গিয়ে পুরস্কার নেয় পিয়াসা সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিশুসুলভ আন্তরিকতায় আরও সাহসী হয়ে ওঠে পিয়াসা। সে বলেই ফেলে ছবিটির কথা এবং কান্না করে দেয়। তাকে যে ছবিটি আনতে দেয়া হয়নি সেটিও বলতে ভুলেনি। সঙ্গে সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ছবিটি নিয়ে আসার জন্য। তৎপর হয়ে ওঠেন সবাই। পিয়াসার কাছ থেকে তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে তারা যোগাযোগ করেন। বাইরে ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বাবাকে ভেতরে নিয়ে আসেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মমতায় আঁকা পোট্রেটটি তুলে দেয় পিয়াসা।
খোকন বলেন, বিকেলে যখন পিয়াসার বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোন কথা হয় ততক্ষণে তারা টাঙ্গাইল চলে গেছেন। তারা জানালেন, স্বপ্ন পূরণের আনন্দ আর খুশিতে তখন কাঁদছিল পিয়াসা।
সূত্র : বাসস

Posted by Newsi24

top read more news

Politics latest news

T
O
P